হতাশা ও একাকিত্ব কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল লামিয়ার জীবনে। তাই নিজেই লিখে গেছে তার কষ্টের সব কথা। একটি চিরকুট লিখে সে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে পরপারে পাড়ি দিয়েছে। বলছিলাম যশোরের শার্শা উপজেলার দক্ষিণ বুরুজ বাগান এলাকার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী লামিয়ার কথা। তার বাবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি। রোববার সকালে তার মা শিখা আক্তার শিরিন তাকে বাড়িতে একা রেখে যশোরে যান। বাড়িতে কেউ না থাকায় সন্ধ্যায় হতাশা ও একাকিত্বে লামিয়া ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে নিজেকে শেষ করে দেয়। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে তার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় তার হাতে একটি চিরকুট পাওয়া যায়, যা মৃত্যুর কিছু সময় আগে সে নিজ হাতে লিখেছে। রোববার রাতে নিজ গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
লামিয়ার লেখা চিরকুটটি হুবহু তুলে ধরা হলো: কেমন আছো? আশা করি ভালো আছো।
আমাকে মাফ করো। এখন কে এটা পড়ছে, আমি জানি না। তবে এটা জানি, এখন এটা তোমার হাতে, আর আমি আর নেই। আমার এই কাজের জন্য কাউকে দোষ দিও না। আমি নিজ ইচ্ছায় এটি করছি। বাঁচতে ইচ্ছে করেনি, তাই জীবনের ইতি টানলাম।
তবে একটা কথা, আমার এমন কিছু নেই যা আমি পাইনি। আমার মা-বাবা আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন। তবে আমি তাদের কখনো মাফ করতে পারবো না।
মাকে নিয়ে কিছু বলো না। তিনি আমার জন্য অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু আমার বাবা কখনো তা করেননি। তিনি যদি আমাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন, তাহলে যেন কখনো কাঁদেন না, কারণ আমি তাকে খুব ভালোবাসি।
সবাইকে একটা কথা বলতে চাই, তোমরা আমার জন্য কাঁদো না, পারলে আমার জন্য দোয়া করো।
আমাকে মাফ করো। আমি একজন ভালো মেয়ে হতে পারিনি। এখন এটা তোমার হাতে, মানে আমি আর নেই।
কারো প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। আমার মা আমার জন্য কম কিছু করেননি, তিনি অনেক করেছেন। কিন্তু আমার আব্বু… তিনি কেমন বাবা, আমার সঙ্গে কখনো কথা বলেননি। খুব ইচ্ছে ছিল শেষবার তার সঙ্গে কথা বলবো, কিন্তু তা আর হলো না।
অবশ্যই সবাই আমার জন্য দোয়া করো।
আমি আমার মা আর নানাকে অনেক ভালোবাসি।
সবাই ভালো থেকো।
আল্লাহ হাফেজ।
খুলনা গেজেট/এনএম

